বুধবার , ডিসেম্বর ৬ ২০২৩
শিরোনাম
Home / শিক্ষা-সাহিত্য / 📖 আলোচনা -ঃ পঞ্চাশের পরে ===================== আজিজ কাজল।

📖 আলোচনা -ঃ পঞ্চাশের পরে ===================== আজিজ কাজল।

কবি ও প্রাবন্ধিক ওমর শামস এর লেখা ‘পঞ্চাশের পরে’ দারুণ একটি মূল্যায়ন গ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যের আটজন বিশিষ্ট কবিদের নিয়ে লেখা একটি উল্লেখযোগ্য আকর গ্রন্থ বলা যায়। আটজন কবির—কেউ বাংলার আবহমান বিষয়, কেউ ঐতিহ্য, কেউ মুক্তিযুদ্ধ, কেউ উপস্থাপনায় সরাসরি সহজ অথচ মর্মভেদ্য। কেউ ইউরোপীয় ভাবনাজাত। কেউ প্রতিক্রিয়াশীল। কেউ সুররিয়ালিস্ট ও বিমূর্ত। কেউ একাডেমিক। কেউ সম্পূর্ণ নি:সঙ্গ ও স্বতন্ত্র। কলেবর আরো বাড়বে। পাঠোত্তর ভাবনা এবং নিজস্ব ভাবনাসহ আপাতত এখানে আমার ছোট্ট ভাবনা-সংক্ষেপ….
# আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ: অনেকবেশি স্মৃতিময় শিল্পী। আবহমান বিষয় ও ঐতিহ্য কে সুন্দর ও সহজ শিল্পভাষ্যে গতিময় স্বরে পলিমাটির ঘ্রাণ মাখা বাংলাকে প্রাণবন্ত ও নান্দনিক করে তুলেছেন। অনেকবেশি চিরকালীন। তার ভাষা সরল সহজ টানা গদ্যে উচ্ছ্বল।
# শামসুর রাহমান: ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারী আন্দোলনসহ স্বদেশের অনেকগুলো ক্রান্তিকালের সাক্ষী। ভাষায় বেশি নীরিক্ষাপ্রবণ নয়। তবে সচল, সক্রিয়, গতিময় ও সমসাময়িক।
# সৈয়দ শামসুল হক: সৈয়দ হক মুক্তিযুদ্ধ ও গ্রামীণ কিছু ঘটনা বা আবহকে শিল্পীত করে কালজয়ী করেছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও গ্রামীণ কিছু আবহকে দারুণ, শিল্পীত, কাব্যময় ও কালজয়ী করেছেন। তার ভাষায় স্মার্টনেস আছে। নিজস্ব একটা ঢং থাকলেও খুব একটা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয়।
# আল মাহমুদ: আল মাহমুদ বরাবরই ভাটি বাংলার একজন শক্তিমান শিল্পসত্তা। ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’ ও সোনালী কাবিন’ এ যেভাবে তার শক্তির সম্পন্নতা আছে। পরে নিজ বিশ্বাসগুণের কারণে ভাষার কাঠামো অনেক বেশি শক্তিসম্পন্ন হলেও পলায়ন পরতা প্রচুর। গ্রামের যাপনবৈচিত্র্যসহ ভাষার গাঁথুনীতে আছে আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য। যা জসীম উদ্দীন ও জীবনানন্দের মাঝামাঝি অথচ নিজস্ব।
# শহীদ কাদরী: মনন ও নাগরিক চেতনার ভেতর দিয়ে শহীদ কাদরি ভাষা ও সৌকর্যে তার স্মার্টনেস রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা জারী রেখেছেন। মনে প্রাণে তিনি নাগরিক সত্তায় মজ্জমান। ভাষার কাঠামো অনেকবেশি স্মার্ট এবং ইউরোবাহিত।
# আব্দুল মান্নান সৈয়দ: অনেকবেশি প্রজ্ঞাময় ও বিমূর্ত সত্তা। একদম ন্যাচারাল নয়। পরাবাস্তব (সুররিয়ালিস্ট) তার ভাষা এবং প্রজ্ঞা বাংলা ভাষার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবকে বেশ সমৃদ্ধ করে আছে বটে। সমকালীন লিখিয়ের মাঝে যার কোন অনুরণন বা অনুসরণ নেই বললেই চলে। বোধ ও চিন্তায় অনেক বেশি শক্তিসম্পন্ন মননশীল ও কেতাবী। ইউরোপীয় এক্সপ্রেশনালিজমের দারুণ প্রভাব আছে।
# হুমায়ুন আজাদ: হুমায়ুন আজাদ কবিতায় সৃজন, মনন ও বুদ্ধিদীপ্ত শিল্পী। ষাটের একটা ক্ষীণধারা। এবং অনেক শিল্পের মিশেলে মজ্জমান ও অবসন্ন। কন্টেন্টের দিক দিয়ে অনেক গুছানো। ধ্রুপদি ও একাডেমিক।
# আবুল হাসান। বাংলা সাহিত্যের নি:সঙ্গতার প্রতীক। একটা স্বাস্থ্যবান উদ্ভিজ্জ লতা। দেশ, মানুষ, মানবতা, শিশুর সারল্যসহ অসংলগ্ন বিশ্ব ব্যবস্থাপনাকে স্পষ্ট বয়ানে সম্পূর্ণ নিজস্ব শৈলিতে উপস্থাপনে ঋদ্ধ। তার কবিতায় আছে, মৃত্যুচিন্তা এবং টেলিপ্যাথিক ভাবনা সঞ্জাত উপলব্ধি। যা অনেকবেশি দূরদর্শী ও নিসঙ্গ। ভাবনালোক ও কল্পনায় জীবনানন্দ যতোটা শেকড়লগ্ন। গভীর ও বৈশ্বিক। আবুল হাসানও শেকড়লগ্নতায় স্পষ্ট। গভীরতায় নিজস্ব ও দৈশিক।
কবি ওমর শামস এর আলোচনা অনেক বেশি বিজ্ঞান সম্মত এবং যৌক্তিক। কবির সাথে অনেকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় এবং সরাসরি তাদের পাঠ করার বড় একটি দুর্লভ সুযোগ হওয়ায় কিছু বিষয় অনেক মৌলিক হয়ে ওঠেছে। সম্পূর্ণ এবং নিজস্বতা পেয়েছে।
প্রিয় পাঠক এই হলো এ মুহূর্তের পাঠোত্তরে প্রতিক্রিয়া। আরো কিছু অভিনিবেশ, অনুবাধন বাকী আছে। কলেবর আরো বাড়বে সন্দেহ নেই। সবাই ভাল থাকুন। করোনাময় দিনে নিরাপদে থাকুন। চট্টবাংলা’র জন্য শুভ কামনা।
লেখক-ঃ কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক ।
                                                                                                                       

এটি পড়ে দেখতে পারেন

ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর আন্দোলন চাই

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী ———————————— সমগ্র পৃথিবী দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, হবে, হতেই থাকবে কিন্তু মানুষের …