
দুর্জয় বড়ুয়া (শান্ত) প্রতিনিধি
ঘটনাটি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী কখনো হাসপাতাল এলাকা,কখনো কবাখালী, কখনো বোয়ালখালী বাজারে ঘুরাঘুরি করতো। এরই মধ্যে ভারসাম্যহীন নারীটি সন্তান সম্ভবা দেখা যায়। বিষয়টি দীঘিনালা হাসপাতালের নার্সদের নজরে আসলে একাধিকবার সেচ্ছায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছে নারীটিকে।
গত ৯ তারিখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে নার্সরা চেকআপ করে বুঝতে পারেন প্রসববেদনা অসুস্থ হয়ে পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি। অবিভাবকহীন নারীটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বুঝতে পারেন দীঘিনালা হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয় পরে নার্সরা নিজেরা কিছু টাকা তুলে দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জুনি চাকমা ও মেটিনি চাকমাকে দায়িত্ব দিয়ে এ্যামবুলেন্স যোগে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে রাতে ডাক্তার বিউটি চাকমা তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেয় নারীটি। । সিজার পরবর্তীতে দীঘিনালা হাসপাতালে এনে সপ্তাহ খানেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয় হয়। রই মধ্যো কয়েকজন নার্স,একজন ডাক্তার পোষাক ও আনুষঙ্গিক জিনিস কিনে দেয়। এরপর শিক্ষক- নার্স দম্পতি সার্বিক দেখাশোনা ও খাবার দিয়ে পাশে দাঁড়ায়।
দীঘিনালা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা আক্তার ও তার স্বামী আবদুর রাজ্জাক শিশুসহ নারীটিকে দেখাশোনা ও খোঁজখবর রাখেন, খাবারদাবার দিতে থাকেন। পরবর্তীতে আবদুর রাজ্জাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাগলিটি মা হয়েছে বাবা হয়নি কেউ হেডলাইন দিয়ে একটি রিলস ভিডিও ছাড়া হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে ২১ শে ফেব্রুয়ারী। তাৎক্ষণিক রাত ১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ কাসেম উপজেলা সহকারী কমিশনর(ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক, উপজেলা ইউআরসি ইনসট্রাক্টর মাইনুদ্দিন ও পেসবুকে পোস্ট দেয়া শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করে শীতবস্ত্র সহ অনান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেয়া হয় এবং শিক্ষক- নার্স দম্পতিকে ধন্যবাদ জানান।
মা ও নবজাতক শিশুটির কথা চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাশেম, থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার, শিক্ষক-নার্স দম্পত্তিসহ স্থানীয় সাংবাদিক,ও জনপ্রতিনিধিরাসমন্বয় পূর্বক শিশুসহ নারীটিকে প্রশাসনের তত্বাবধানে উপজেলার একটি রুমে আপতত একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
গত বুধবার দুপুরে ১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিশুসহ নারীটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেন। এবং চিকিৎসা সেবা সহ যেকোনো রকমের সহযোগিতা ও খোঁজখবরের বিষয়ে তৎপর রয়েছে তারা।
এবং নারীটির পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট একটি স্থানে নারীটির সাধারণ জীবনযাপন ও বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি বসতঘর করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানান।