
অভি পাল,প্রতিনিধি
বিশ্বজগতে অনন্ত কালপ্রবাহে মানুষের জীবন নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী। এ ক্ষণস্থায়ী জীবন মহিমা পেতে পারে মানুষের মহৎ কর্মে ও অবদানে। তখন মৃত্যুর পরও মানুষ স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই বয়স মানুষের জীবনের সার্ধকতর মাপকাঠি নয়, মহৎ কীর্তির মাধ্যমেই মানুষের জীবন সফল ও সার্থক হয়।জীবদ্দশায় দেশ ও মানুষের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে মৃত্যুর পর স্মরণীয় হয়ে আছেন অনেক কীর্তিমান। তেমনি একজন কীর্তিমান মানুষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন তিনবারের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মৃত্যুতে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না-ফেরার দেশে, অনন্তলোকে তিনি।তার মৃত্যুতে দেশ হারিয়েছে ক্ষণজন্মা এক রাজনীতিবিদকে। আওয়ামী লীগ হারিয়েছে দলের একজন সততার মূর্ত প্রতীক নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে।গণমানুষের অন্তরে এই বর্ষীয়ান জননেতা চিরদিন বেঁচে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,চট্টগ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আজীবন গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করছেন কিন্তু কখনও মাথা নত করেননি। চট্টগ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের বন্ধু ছিলেন ।তিনি সবসময় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের জন্য ভাবতেন সবসময় তাদের জন্য সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি আমাদের নেতা। আমাদের দিশারী।ছোটবেলা থেকেই আমার নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী আদর্শ ধারণ করে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করি।তার রেখে যাওয়া কর্মকে অনুসরণ করি।
যুবলীগ নেতা শেখ নাছির আহমেদ বলেন,তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, প্রতিষ্ঠান।স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনসহ চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের স্বার্থরক্ষার আন্দোলন করেছেন তিনি।মানব কল্যাণে কাজ করে একজন গণমানুষের নেতা হিসেবে সকলের মণিকুঠায় ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। অদম্য এই রাজনীতিবীদ কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি। একজন নেতার প্রধান গুণ মানবিক হওয়া, মানবতার জন্য কাজ করা।মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন তেমনিই একজন পরিপূর্ণ মানবিক মানুষ।তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক সৃজনশীল রাজনীতিক। তাই তিনি আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রেরণার উৎস।
যুবলীগ নেতা কাজল বডুয়া বলেন, আমার নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী সব সময় জনগনের কল্যাণে কাজ করতেন। যখন তিনি মনে করতেন জনগণের কল্যাণের কাজ, তখন তিনি কাজটা হাতে তুলে নিতেন। কোন কাজ তাঁর দলের কেউ কেউ হয়তো পছন্দ করেনি, কিন্তু তিনি তার তোয়াক্কা করেননি। জনস্বার্থে তিনি কাজ করেছেন।আজীবন তিনি বঙ্গবন্ধু আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করেছেন।তার জীবন আদর্শ বুকে ধারণ করতে পারলেই রাজনৈতিক জীবন স্বার্থক হবে এবং জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।
যুবলীগ নেতা তুষার ধর বলেন,
ত্যাগী, মেধাবী ও নিষ্ঠাবান এই নেতার আজ বড়ই প্রয়োজন।চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থেকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামবাসীর মণিকুঠায় ঠাঁই করে নিয়েছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।তিনি ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নির্ভরতার জায়গা। চট্টগ্রামের এক অকুতোভয় সৈনিক। চট্টগ্রামের মানুষের জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছেন। তাই চট্টগ্রামের মানুষ এখনো ওনাকে মনে রাখেন।দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখেন তিনি।
কীর্তিমানের মৃত্যু হলে তার দেহের ধ্বংস সাধন হয় বটে, কিন্তু তার সৎ কাজ এবং অম্লান-কীর্তি পৃথিবীর মানুষের কাছে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে। তেমনি বর্ষীয়ান জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণি কোঠায় চিরকাল বেঁচে থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর