
মরণব্যাধী করোনা ভাইসারে যখন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে লাশের সারি। নতুন নতুন এলাকা যখন আসছে রেড জোনের আওতায়। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলো।
ঠিক তখনই আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল) করার লক্ষ্যে লাবিবা কনভেনশন হল আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা হাসানুর রশিদ রিপন।
এই আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের বিনামূল্যে থাকা খাওয়াসহ সব ধরণের সহযোগিতার কথা জানালেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কমিউনিটি সেন্টারটি পরিদর্শনে যান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদ চৌধুরী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সেন্টারদাতা হাসানুর রশিদ রিপনের প্রতিনিধি সমাজকর্মী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
উপজেলা প্রশাসনকে সেন্টার প্রদান বিষয়ে সমাজ সেবক হাসানুর রশিদ রিপন জানান, মহান আল্লাহতায়ালাকে সন্তোষ্টির লক্ষ্যে নবী করিম (সঃ) এর আদর্শকে ধারণ ও লালন করে করোনার এই দূর্যোগকালে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে লাবিবা কনভেনশন হলকে আইসোলেশন সেন্টারের জন্য প্রদান করি।
ইতিপূর্বে আমার মালিকানাধীন পিএবি সড়কের শোলকাটায় অবস্থিত লাবিবা কনভেনশন হলকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল) করার জন্য আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ আমাকে প্রস্তাব দেন। আমি তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করি। তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে আনোয়ারাবাসীর জন্য স্বল্প মূল্যে ১৬ হাজার স্কয়ার ফিটের আধুনিক লাবিবা কনভেনশন হলটি চালু করি। বর্তমানে ৭ হাজার স্কয়ার ফিটের এক তলা হল রুমে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বেট বসানোর সুবিধা রয়েছে। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসতে পেরে আমি শান্তিবোধ করতেছি।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসা ও হাসপাতালের সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে মাননীয় ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির নির্দেশনায় লাবিবা কনভেনশন হলটিকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল) করার প্রস্তাব দিলে হাসানুর রশিদ তাৎক্ষণিক ভাবে রাজি হয়ে হাসপাতাল করার অনুমতি দেন। ভূমি মন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের এই হাসপাতালে বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়াসহ সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। সেই সাথে আনোয়ারাবাসীর জন্য তাঁর এই অবদান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, লাবিবা কনভেনশন হলটিকে নীতিগত ভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এই হাসাপাতালে ১৫ থেকে ২০ টি সিট স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেয়া যায় সেই ভাবে গড়ে তোলা হবে।
